জুমার নামাজ সহিহ হবে যেসব শর্ত পূরণ হলে

মুসলিম উম্মাহর জন্য জুমার নামাজ পড়া মহান আল্লাহ তাআলার হুকুম। অন্যান্য দিনের তুলনায় এ দিনের মর্যাদা বেশি। নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী যেমন এ নামাজ পড়া যাবে না, আবার কেউ পড়লেও তা আদায় হবে না। জুমার নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বাংলাদেশ জার্নালের পাঠকদের জন্য শর্তগুলো নিচে তুলে ধরা হল-

জুমার নামাজ সহিহ হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে নামাজ পড়ার অনুমতি থাকা। যাতে সব মুসলমান বিনা বাঁধায় স্বাধীনভাবে একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করতে পারে। এছাড়া যেসব শর্ত না থাকলে জুমার নামাজ সহিহ হবে না। তা হলো-

ওয়াক্ত বা নির্ধারিত সময়

জুমার নামাজের জন্য ওয়াক্ত বা সময় জরুরি। এ নামাজ জোহরের ওয়াক্তে পড়তে হয়। সুতরাং কেউ চাইলে জোহরের ওয়াক্তের আগে কিংবা পরে এ নামাজ পড়লে তা আদায় হবে না। তাছাড়া জুমার নামাজ কাজা পড়ার তথা জোহরের ওয়াক্তের আগে/পরে পড়ার কোনো নিয়ম নেই। জুমার নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য জোহরের ওয়াক্তেই আদায় করতে হবে। একান্ত যদি কেউ জুমার নামাজ পড়তে না পারে তবে তাকে জোহর নামাজ আদায় করতে হবে।

নামাজের আগে খুতবাহ

জুমার জন্য অন্যতম শর্ত হচ্ছে নামাজের আগে খুতবাহ দেয়া। খুতবাহ ছাড়া নামাজ পড়লে বা নামাজের পর খুতবাহ পড়লে জুমার নামাজ আদায় হবে না। সুতরাং জুমার ২ রাকাআত ফরজ নামাজ পড়ার আগে মুয়াজ্জিনের আজানের পর ইমাম দুইটি খুতবাহ দেবেন। এ খুতবাহ জুমার নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য অন্যতম শর্ত।

জামাআত হওয়া

জুমার নামাজ একাকি আদায় করা যায় না। জুমার নামাজের জন্য শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা। জুমআর জামাআত হওয়ার জন্য খুতবাহ-এর শুরু থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিন ছাড়া কমপক্ষে ৩ জন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ জামাআত শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকতে হবে।

এছাড়াও জুমার নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য আরো তিনটি শর্ত রয়েছে-

১. স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র হওয়া।

২. শহর বা বড় গ্রাম হওয়া।

৩. মুসলিম শাসক বা তার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, জুমার নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য যথাযথ সময়, দুইটি খুতবাহ ও যথাযথ উপস্থিতিসহ খুতবা ও জামাআত অনুষ্ঠিত করা। আর তাতেই বিশুদ্ধ হবে জুমার নামাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *